স্বদেশ ডেস্ক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ভাগিনার হাতে খুন হয়েছেন মামা। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহমুদ মিয়া (৩৭) উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৈয়দটুলা গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মৃত কালা মিয়ার ছেলে। ঘাতক ভাগিনা আলমগীর মিয়া মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সৈয়দটুলা গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার আলমগীর ও আনোয়ারের মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কলহের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তাদের আপন মামা সরাইল বিকাল বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহমুদ মিয়া বোনের বাড়িতে যান। এ সময় মামা মাহমুদ মিয়া ভাগিনা আলমগীর ও আনোয়ারের মধ্যকার পারিবারিক বিরোধ মিটানোর চেষ্টাকালে এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ভাগিনা আলমগীর ছুরি হাতে নিয়ে মামা মাহমুদ মিয়ার পেটে উপর্যপুরি আঘাত করে। এ সময় মাহমুদ মিয়া মাঠিতে লুটিয়ে পড়ে। স্বজনরা গুরুতর আহত মাহমুদ মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত সরাইল হাসপাতেলে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ খবর এলাকায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আজ বুধবার সরজমিনে নিহত মাহমুদ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে শোকাহত মানুষের ভীড় দেখা যায়।
উদীয়মান ব্যবসায়ী ও এলাকায় ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত মাহমুদ মিয়ার আকস্মিক খুন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকার লোকজন। এক ছেলে ও তিন মেয়ের বাবা ছিলেন মাহমুদ। তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এলাকায় দানশীল ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, ভাগিনা আলমগীরকে নিজের ছেলের মত ছোটকাল থেকে আদর করে বড় করেছে মামা মাহমুদ মিয়া। আজ সেই ভাগিনা আলমগীরের ছুরিঘাতেই খুন হয়েছেন মামা মাহমুদ মিয়া। বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই।
এ ব্যাপারে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আলমগীর নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।